জিজ্ঞাসাবাদে মিলল একদম নতুন তথ্য: কেঁচো খুজতে বেরিয়ে এলো সাপ…!

2225

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমানকে নিয়ে ক্রমেই নানা ধরণের রহস্যের জাল তৈরি হচ্ছে। হামলার দিনের ঘটনায় কিছু বিষয়ে অসামঞ্জ্যতা দেখা গিয়েছে। উঠেছে নতুন কিছু প্রশ্ন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুর বলেছেন, তিনি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন, নিজে নিজেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। জাফর ইকবালকে হত্যার লক্ষ্যে তিনি এক বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এই কাজের জন্য নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেতেন।

জাফর ইকবাল সমন্ধে ফয়জুল নিয়মিত তথ্য নিতেন। কিন্তু কার বা কাদের নির্দেশে ফয়জুল এই কাজ করতেন তা জানা যায়নি। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলেই সে মুখ বন্ধ করে রাখছে। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারছে না পুলিশ।এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, জাফর ইকবাল যে ওই দিন ওই সময়ে এমন একটি অনুষ্ঠানে থাকবেন, ভেতরের সহযোগিতা ছাড়া ফয়জুরের পক্ষে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।

এরই প্রেক্ষিতে জাফর ইকবালের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শনিবার বেলা তিনটা থেকে শুরু হওয়া ‘রোবো কমব্যাট’ অনুষ্ঠানটিতে জাফর ইকবালের উপস্থিতির ঘটনা পূর্বনির্ধারিত ছিল না। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুদিনব্যাপী ‘সাস্ট ট্রিপল ই ফেস্টিভ্যাল ২০১৮’-এর সকাল ও সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন এমনটাই জানিয়েছিলেন।

সে অনুযায়ী তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পৌঁছান। দুপুরের খাবারের বিরতির পর তিনি বেলা তিনটায় মুক্তমঞ্চে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় ফয়জুল একটি সাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। ওইদিন সকালে ৯টায় তিনি ঢোকেন। বিকালে ৩ টায় তাকে জাফর ইকবালের পেছনে দেখা যায়। মাঝের সময়টায় ফয়জুল কোথায় ছিলেন, সেটা জানা যায়নি। উল্লেখ্য এই মাঝপথের একটি সিসি ক্যামেরা সেদিন অচল ছিল।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফয়জুর পুলিশকে বলেছেন, তিনি ওই দিন দুবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন। সেটা কখন কখন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

আরো কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন উঠেছে ফয়জুলের সেদিনের জামাকাপড় নিয়েও। কেননা সেদিন তার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট এবং ছাইরঙা প্যান্ট। ঐদিনের ঐ ফেস্টিভালে আসা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পোষাকও এমনই ছিল। ফলে ফয়জুলকে আলাদা করে চেনা যায়নি বা তাকে নিয়ে কোন প্রশ্নও ওঠেনি।

তবে কী করে এমনটি ঘটল তা সে প্রশ্নের জবাবে ইইই বিভাগের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘খবরাখবর দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে লোকের অভাব নেই। ’

ফয়জুরের সাইকেলটি গেল কই?
সিসি ক্যামেরায় ফয়জুলকে সাইকেলে ঢুকতে দেখা গেলেও সেই সাইকেলটি পরে কোথাও পাওয়া যায়নি। সাইকেলের চাবিও মিলেছে তার পকেটে।

তা ছাড়া ফয়জুলকে সারাক্ষণ তার প্রতিবেশিরা মুঠোফোনে কথা বলতে দেখলেও ঘটনার দিন ফয়জুলের কাছ থেকে কোন মোবাইলফোন পাওয়া যায়নি।

তারা পকেটে পাওয়া যায় ১০ টাকা, চিড়া, ছয় ইঞ্চির ভাঁজ করা ছুরি।