ভয়ানক দাবার খেল চলছে সিরিয়ায়, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই কয়েক হাজার মানুষের !!

480

চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকেই বিদ্রোহীদের উপর আসাদ বাহিনীর নারকীয় হামলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ করছে সরকারি বাহিনী। একাধিক হামলায় এখনও পর্যন্ত ১৫০ শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫০০ মানুষের। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আরো কয়েক হাজার।সাম্প্রতিক ওই হামলা থেকেই সিরিয়ায় চলা এক ভয়ানক দাবার খেল প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছিল সিরিয়ার আসাদ সরকার, সঙ্গে রয়েছে রাশিয়া ও ইরান। একই সঙ্গে আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সিরিয়াতেই চলছিল মার্কিন হানা। পাশাপাশি আইএস জঙ্গিদের উৎখাত করছিল ‘এসডিএফ’ বা ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’। এই ‘এসডিএফ’কে সমর্থন দিচ্ছে আমেরিকা ও ইসরায়েল-সহ একাধিক ন্যাটো দেশ। এদিকে প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বদ্ধপরিকর ‘এসডিএফ’। এই হলো প্রেক্ষাপট।

এতদিন ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের উৎখাতেই ব্যস্ত ছিল দুপক্ষ। তবে আইএস-এর পতন নিশ্চিত হতেই ফের পুরোনো সমীকরণে ফিরে গিয়েছে আসাদ-আমেরিকা-রাশিয়া। ‘এসডিএফ’কে কাজে লাগিয়ে আসাদকে গদি থেকে সরাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে আসাদকে কাজে লাগিয়ে সিরিয়ায় কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চাইছে রাশিয়া। ফলে সিরিয়ার নাগরিকদের পরিস্থিতি কার্যত রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু খাগড়ার প্রাণ যায়।গত সপ্তাহে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা রাজধানী দামাস্কাসের পার্শ্ববর্তী পূর্ব ঘাউটা শহরে আসাদ বাহিনীর হামলায় প্রায় ১৫০ নিরীহ শিশু মারা যায়। এই ঘটনার পরও সরাসরি আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারছে না আমেরিকা। কারণ তা করতে হলে কার্যত লড়তে হবে রাশিয়ার সঙ্গেই। একই কারণে আমেরিকার সমর্থন প্রাপ্ত ‘এসডিএফ’-এর উপর সরাসরি হামলা চালাচ্ছে না রাশিয়া। তাই শেষমেষ অস্ত্র সরবরাহ করেই যুদ্ধের ফলাফল নিজের পক্ষে করার চেষ্টা করছে দুই মহাশক্তি।

আসাদের হাতে থাকা অস্ত্র যে রাশিয়া সরবরাহ করেছে সে নিয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে ‘এসডিএফ’-এর হাতে থাকা মিসাইলও মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রমাণ। ফলে মনের সাধে যুদ্ধে মেতেছে দুই শিবির। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আড়ালে সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। যার খেসারত প্রাণ দিয়ে দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশুদের।