মৃত্যুফাঁদ ত্রিভুবন বিমানবন্দর: দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আয়ারল্যান্ডের পাইলট

582

১২ই মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৫০ জন।

ইউএস বাংলার বম্বারডিয়ার ড্যাশ কিউ ৪০০ বিমানটিতে মোট ৭১জন যাত্রী এবং ক্রু ছিলেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ঘটা ৩য় বৃহত্তম ঘটনা।

অ্যাভিয়েশন সেফটি আরো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানবন্দরটির উপর দিয়ে ঝড় বইছিল এবং ২ হাজার ৫০০ ফিট উপর দিয়ে কুমুলোনিম্বাস মেঘ উড়ে যাচ্ছিল। তবে আবহাওয়ার কারণেই ইউএস বাংলার বিএস ২১১ ফ্লাইটটি দুর্ঘটনায় পড়েছে কিনা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

এ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ইউএস-বাংলা বলছেন নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভুল নির্দেশনার কারণে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। আর ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নির্দেশনা মানেন নি পাইলট।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ পাইলট মাকসুদা আক্তার প্রিয়তীও ধারণার করছেন এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয় বরং মানুষের ভুল। অর্থাৎ পাইলট বা কন্ট্রোলরুমের ভুল। তবে সব কিছু বিবেচনা করে তার মনে হয়েছে ভুলটি পাইলটের নয় বরং ত্রিভুবন কন্ট্রোলরুমের।

এক মৃত্যুফাঁদের নাম যেন কাঠমান্ডুর এই ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দর বহু দুর্ঘটনার সাক্ষী। আর দিন দিন বাড়ছে এই দুর্ঘটনার মিছিল, সঙ্গে বাড়ছে জীবনহানির সংখ্যা।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৩৮ মিটার বা ৪ হাজার ৩৯০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরে ১৯৫৬ সাল থেকে সোমবারের দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত মোট ১০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। অ্যাভিয়েশন সেফটির তথ্য অনুযায়ী এই সব দুর্ঘটনায় মোট ৩৫৬ জন নিহত হন। তবে অন্য একটি পরিসংখ্যান বলছে এই নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৬’শ এর বেশি।