সীমানা পেরোলেই মিয়ানমারকে কঠোর জবাব

258

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেই বিজিবি কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই মিয়ানমারের। দেশের সীমানা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় আছে।’

বৃহস্পতিবার বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বিজিবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯১তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজিবি অত্যন্ত শক্তিশালী। মিয়ানমার সেনাবাহিনী যদি সীমান্ত লঙ্ঘন করে বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে তাহলে কঠোর জবাব দেয়া হবে।’বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের তমব্রু সীমান্তের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পোস্টের মাঝামাঝি এলাকায় হঠাৎ করে অতিরিক্তি সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার। সীমান্ত ঘেঁষে মোতায়েন করা হয় ভারী অস্ত্র। বিষয়টি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়। পাশাপাশি তমব্রু সীমান্তে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সরে যেতে মাইকিংও করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় বাড়িয়েছে।

এসব ঘটনার পর বিজিবিও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর বিজিবি প্রতিবাদলিপি ও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। তবে সেই আহ্বানে এখনো কোন সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার অহেতুক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করছে। মিয়ানমারের মুখের কথা সঙ্গে কাজের বাস্তবায়ন কম। তারপরও আমাদের বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, সীমান্তে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত বিজিবি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেন, এনডিসি, পিএসসি প্রধান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক ও বিজিবির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।